ছোট্টবেলা প্রাইমারিতে গিয়েছে ‘বাবুরাম সাপুরে’ ও ‘ষোল আনাই মিছে’ কবিতার সাথে পরিচয় তার হয়েছেই।তারই ছেলে অস্কারজয়ী চলচ্চিত্র নির্মাতা সত্যজিৎ রায়। তাদেরই পৈতৃকভিটা কিশোরগঞ্জের কটিয়াদির মসূয়া গ্রামে।যদিও ২০০ বছর আগের পুরোনো দালান সংস্কার করে এখন রঙিন করা হয়েছে।

সুকুমার রায়ের পিতা ছিলেন উপেন্দ্রকিশোর রায়।১৮৬৩ সালে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদি থানার মসূয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি।পিতা মাতা তার নাম রাখেন কামদারঞ্জন।তার চাচা হরি কিশোর রায়ের ছিলো বিশাল জমিদারি।অসংখ্য দাস দাসী পাইক পেদায়ায় গিজগিজ করতো তার মহল।কিন্তু তার মনে কোনো সুখ ছিলো না।কারণ তিনি ছিলেন নিঃসন্তান।তাই ছোট্ট বয়সে কামদারঞ্জনকে দত্তক নিয়ে নিজের নামের সাথে মিলিয়ে তার নাম রাখেন উপেন্দ্র কিশোর রায়।পড়াশুনা শেষ করে কলকাতায় থিতু হোন উপেন্দ্রকিশোর ।পরবর্তীতে তার ঔরষে জন্ম নেন শিশু সাহিত্যিক সুকুমার রায়।সুকুমার রায়ের ছেলে অস্কারজয়ী চলচ্চিত্র নির্মাতা সত্যজিৎ রায় এখানে না আসলেও সুকুমার রায় স্বপরিবারে এখানে এসেছেন অনেক বার।তাদের রক্তে বয়ে চলেছে এই বাংলা মাটির ঘ্রাণ।

আমরা একদিন হুট করে পুরোনো স্মৃতির খোঁজে সেখানে হাজির হই।যদিও আমাকে মূলত  ঐ পুরাতন দালানের ধ্বংসাবশেষই বেশি টানে।এইসব ধ্বংসাবশেষের সামনে দাঁড়িয়ে ভাবি—এককালে এই দালানের কতকীর্তি ছিলো!কোলাহলমুখর থাকতো বাড়ির আঙিনা।কত জৌলুশপূর্ণ মজমা হতো সন্ধ্যার পিদিম জ্বালিয়ে।আজ এসব কেবল ইট সুরকির ভাঙা আস্তরণের নীচে চাপা পড়ে আছে।কিছুটা যদিও লেখা আছে ইতিহাসের ধূসরপাণ্ডুলিপিতে।আমরা সেই ধূসরিত পাতার ইতিহাস উদ্ধারেই এসব স্থানে ছুটে চলি।