ইতিহাস, ধর্মীয় আবহ ও নান্দনিক স্থাপত্যের এক অপূর্ব সমন্বয় মুন্সীগঞ্জ-বিক্রমপুরের লৌহজং উপজেলার পদ্মা সেতু উত্তর থানাধীন মেদিনীমন্ডল ইউনিয়নের উত্তর মেদিনীমন্ডল গ্রামে অবস্থিত ‘খান সাহেবের বাড়ির মসজিদ’। সবুজে ঘেরা গ্রামীণ পরিবেশ, বিশাল দীঘি আর প্রাচীন স্থাপত্যের সৌন্দর্য নিয়ে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে শতবর্ষী এই মসজিদটি। এর নান্দনিক রূপ দেখতে প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে ভিড় করছেন ইতিহাস ও স্থাপত্যপ্রেমী দর্শনার্থীরা।

নির্মাণ ইতিহাস ও স্থাপত্যশৈলী:

ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন আমলে, ১৯২৫ খ্রিষ্টাব্দে নির্মিত হয় দৃষ্টিনন্দন এই মসজিদটি। পুরো স্থাপনা জুড়ে করা সূক্ষ্ম কারুকাজ ও অলংকরণ মুসল্লি ও দর্শনার্থীদের সহজেই আকৃষ্ট করে। মসজিদের সম্মুখভাগে রয়েছে তিনটি প্রবেশপথ। স্থাপনাটির ওপরে রয়েছে ৪টি বড় গম্বুজ ও ৮টি মিনার। শুধু বাইরেই নয়, মসজিদের ভেতরের অংশেও রয়েছে সূক্ষ্ম ও দৃষ্টিনন্দন নকশার সমাহার। চারপাশের বড় গম্বুজগুলোর পাশাপাশি ছোট ছোট মিনারের নিখুঁত সমন্বয় পুরো মসজিদের সৌন্দর্যকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

মনোরম পারিপার্শ্বিক পরিবেশ:

স্থাপত্যশৈলীর পাশাপাশি এই মসজিদের চারপাশের পরিবেশও বেশ মনোরম ও দৃষ্টিনন্দন। মসজিদের পূর্ব পাশে রয়েছে বিশাল এক ঘাট বাঁধানো দীঘি এবং দক্ষিণ পাশে রয়েছে একটি বড় ঈদগাহ মাঠ। মুসল্লিদের সুবিধার্থে ঈদগাহ সংলগ্ন দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে একটি ওজুখানা নির্মাণ করা হয়েছে। মসজিদের উত্তর পাশে রয়েছে এই মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা ও খান পরিবারের (পূর্বসূরি) পাঁচ কর্তার কবরস্থান। এছাড়া মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে জালাল উদ্দীন খান স্মৃতি পাঠাগার, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং একটি খেলার মাঠ।

ঐতিহ্যের স্মারক:

সরেজমিনে দেখা যায়, চারপাশে সবুজের সমারোহ এবং সামনের বিশাল দীঘির পানির বিস্তৃতির কারণে দূর থেকেই পুরো স্থাপনাটি বেশ আকর্ষণীয় দেখায়। প্রাচীন এই ধর্মীয় স্থাপনাটি বিক্রমপুরের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অন্যতম এক স্মারক হিসেবে সগৌরবে টিকে রয়েছে।