বাংলাদেশের নানা প্রান্তে এখনো অনেক প্রাচীন স্থাপনা সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে। সেসবের মধ্যে মসজিদের সংখ্যাই বেশি। দুর্ভাগ্য এবং হতাশার কথা হলো, সেসব মসজিদের ইতিহাস আমরা অধিকাংশই জানি না। জানার মতো তেমন আর্কাইভ কিংবা তথ্যসমৃদ্ধ পুস্তকাদিও দুর্লভ। কিছু কিছু মসজিদ আছে; যেগুলো নিয়ে স্বল্পবিস্তর গবেষণা, আলাপ-আলোচনা হলেও অধিকাংশ মসজিদ নিয়েই তেমন গবেষণা কিংবা অনুসন্ধান হয় না। অথচ বাংলাদেশের গ্রামবাংলায়, অনেক জায়গায় এখনো কত প্রাচীন স্থাপনা ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। ‘শংকরপাশা শাহি জামে মসজিদ’ তেমনই একটি প্রাচীন মসজিদ।
ভ্রমণপ্রিয় মানুষের প্রিয় জেলা হবিগঞ্জের বুকে অবস্থিত ৫০০ বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী এই মসজিদ। স্থাপত্যশিল্পের অন্যতম নিদর্শন কালের সাক্ষী এ মসজিদটি হবিগঞ্জ সদর উপজেলার উচাইল ও রাজিউড়া গ্রামের মধ্যবর্তী শংকরপাশা গ্রামে প্রায় ছয় একর জমিজুড়ে বিস্তৃত। সুলতানি আমলের স্থাপত্য নিদর্শনগুলোর মধ্যে অন্যতম এটি। টিলার ওপর নির্মিত বলে অনেক দূর থেকে সহজেই দর্শনার্থীদের নজরে পড়ে এবং মসজিদের চমৎকার নির্মাণশৈলী সহজেই দৃষ্টি কাড়ে। উন্নতমানের পোড়া ইট কেটে ইমারতে সেঁটে দেওয়া। গায়ে কোনো প্রলেপ নেই। দেয়ালের বাইরের অংশে পোড়া ইটের ওপর বিভিন্ন নকশা। মসজিদের সঙ্গেই রয়েছে একটি শিলালিপি; যা প্রাচীনকালের সাক্ষ্য বহন করে।
বিভিন্ন নামে নামকরণ
মসজিদটি লাল রঙের বলে অনেকে লাল মসজিদও বলে থাকেন। আবার টিলার ওপর বলে কেউ কেউ ‘টিলা মসজিদ’ বলেন। দুটি মিলিয়ে ‘লাল টিলা মসজিদ’ও বলা হয়। তবে যে নামেই ডাকা হোক, সবাই খুব সহজেই মসজিদটিকে চিনতে পারেন। তবে স্থানীয়রা এই মসজিদকে গায়েবি মসজিদ বলে ডাকে।
মসজিদের নকশা ও ইটের বৈচিত্র্যময় গাঁথুনি দৃষ্টি কাড়ে সবার। মসজিদটি এক গম্বুজের। সুলতানি আমলের বর্গাকার এ মসজিদের দেয়ালের দৈর্ঘ্য ২১ ফুট ৫ ইঞ্চি। এর সামনে পাঁচ ফুট চার ইঞ্চি প্রশস্ত বারান্দা। মসজিদের চারটি কোণে রয়েছে চারটি অষ্টভুজাকৃতির বুরুজ। উত্তর ও দক্ষিণ দিকের দেয়ালেও একই রকম বুরুজ রয়েছে। মসজিদের পূর্বদিকের সদরে রয়েছে খাঁজ আর খিলানশোভিত তিনটি প্রবেশপথ। মধ্যবর্তী প্রবেশপথটি অন্য দুটি প্রবেশপথ থেকে প্রশস্ত ও উঁচু। মসজিদের উত্তর ও দক্ষিণ পাশে আছে বারান্দা।

০টি মন্তব্য
এখনো কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।