হবিগঞ্জ জেলা সদর থেকে প্রায় ১১ কিলোমিটার দূরে, সদর উপজেলার রাজিউড়া ইউনিয়নের উচাইল শংকরপাশা গ্রামে দাঁড়িয়ে আছে মধ্যযুগীয় বাংলার অন্যতম স্মারক—শংকরপাশা শাহী মসজিদ। পাঁচ শতাব্দীরও বেশি সময় পেরিয়ে আসা এই স্থাপনা ধর্মীয় আবেগ, বাংলার ইতিহাস, প্রাচীন স্থাপত্যশিল্প ও ঐতিহ্যের অমূল্য নিদর্শন।

নির্মাণকাল ও তথ্যসূত্র

মসজিদটির নির্মাণকাল নিয়ে বিভিন্ন সূত্রে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। তবে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসনের নথিপত্রে ১৪৯৩ থেকে ১৫১১ খ্রিষ্টাব্দের সময়কালের কথা উল্লেখ আছে। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে শাহ মজলিস আমিনের নাম, যিনি ঐতিহাসিক বিবরণে সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহের আমলের একজন কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত। মসজিদসংলগ্ন তাঁর সমাধিও স্থানটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করে।

স্থাপত্যে সুলতানি আমলের ছাপ

লাল ইটের গাঁথুনি, কারুকার্যমণ্ডিত খিলান আর চারটি গম্বুজ মসজিদটিকে দিয়েছে স্বতন্ত্র অবয়ব। একটি বড় ও তিনটি অপেক্ষাকৃত ছোট গম্বুজের বিন্যাসে ফুটে উঠেছে প্রাচীন বাংলার নির্মাণশৈলীর পরিচয়। মসজিদের পূর্বদিকের সম্মুখভাগে রয়েছে খাঁজ ও খিলানশোভিত তিনটি প্রবেশপথ। মধ্যবর্তী প্রবেশপথটি অন্য দুটি প্রবেশপথের তুলনায় প্রশস্ত ও উঁচু। উত্তর ও দক্ষিণ পাশে রয়েছে অল্পবিস্তৃত বারান্দা। সীমিত উপকরণে এমন নান্দনিক স্থাপনা নির্মাণ তৎকালীন কারিগরদের দক্ষতা ও অসাধারণ শিল্পবোধের সাক্ষ্য বহন করে।

বিস্মৃতি থেকে ঐতিহ্যের পরিচয়ে

কালের বিবর্তন একসময় মসজিদটিকে জনচক্ষুর আড়ালে ঠেলে দিয়েছিল। এর আশপাশের এলাকা জঙ্গলে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ার কথাও বিভিন্ন বিবরণে পাওয়া যায়। পরে স্থাপনাটি আবার মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রে ফিরে আসে। বিস্মৃতির আড়াল থেকে ফিরে আসা এই মসজিদ আজ হবিগঞ্জের ঐতিহাসিক পরিচয়ের অন্যতম অংশ। একে ঘিরে দর্শনার্থীদের আনাগোনা ও আগ্রহ স্থানীয় মানুষের মধ্যে আনন্দ ও গর্বের অনুভূতি জাগায়।