গরমের সময়ে Southern politicians ভারী পোশাকের বদলে হালকা cotton ও linen পোশাক ব্যবহার করতেন। পরে seersucker suit Washington-এর গ্রীষ্মকালীন রাজনৈতিক পোশাকের একটা পরিচিত প্রতীক হয়ে ওঠে।
১৯৯৬ সালে Senator Trent Lott-এর উদ্যোগে শুরু হয় “Seersucker Thursday”। ওই দিনে Capitol Hill-এর রাজনীতিকরা Southern summer clothing পরে আসতেন। কয়েক বছর বন্ধ থাকার পর traditionটা ২০১৪ সালে আবার ফিরে আসে।
একসময় সালতানাত - ই - হিন্দের  ভাষায় যার নাম ছিল ‘দুধ ও চিনি’, সেই নামই শেষ পর্যন্ত আমেরিকান রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ হয়ে যায়। কিন্তু এখানে বাংলার জায়গাটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলার textile history নিয়ে আলোচনা হলে মসলিন, জামদানি কিংবা রেশমের মতো বিখ্যাত কাপড় সামনে আসে। কিন্তু এর বাইরে থাকা অসংখ্য কাপড়, স্থানীয় নাম এবং বয়নপ্রযুক্তির ইতিহাস এখনো পর্যাপ্তভাবে অনুসন্ধান করা হয়নি।
সিয়ারসাকারের সঙ্গে বাংলার সম্পর্কও সেই অজানা ইতিহাসের অংশ হতে পারে। তবে এখানে আবেগের চেয়ে প্রমাণ গুরুত্বপূর্ণ।
‘সিয়ারসাকার বাংলায় আবিষ্কৃত’, এমন দাবি করার মতো প্রমাণ এখনো যথেষ্ট নেই। আবার বাংলার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্কই ছিলো না, এ কথাও নিশ্চিতভাবে বলার সুযোগ নেই।
প্রশ্নটার উত্তর খুঁজতে হলে প্রয়োজন পুরোনো textile sample, কোম্পানি আমলের নথি, বাণিজ্যিক তালিকা, Persian textile terminology, ইউরোপীয় museum collection এবং বাংলার আঞ্চলিক তাঁতশিল্পের রেকর্ড যা গবেষণা করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল আশা করবো বাংলাদেশের ধনী কাপড়ের ব্যবসায়ীদের সংগঠন এবং তাদের প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ে এই নিয়ে ভবিষ্যতে গবেষণা হবে। কারণ ইতিহাসের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অধ্যায় অনেক সময় সেখানেই থাকে, যেখানে আমাদের হাতে এখনো পূর্ণ উত্তর নেই।
সিয়ারসাকারের ইতিহাস আমাদের আরও একটা অস্বস্তিকর প্রশ্নের সামনে দাঁড় করায়। বিশ্বে কোনো পণ্য জনপ্রিয় হলে তার কৃতিত্ব কার ? যে তাঁতি প্রযুক্তি তৈরি করেছিলেন ? যে ব্যবসায়ী তাকে বাজারে নিয়ে গিয়েছিলেন ? যে designer তাকে নতুন পোশাকের রূপ দিয়েছিলেন ? নাকি যে দেশ তাকে বিশ্বব্যাপী fashion statement-এ পরিণত করেছিলেন ? এর সহজ উত্তর নেই।

কিন্তু একটা বিষয় পরিষ্কার,  বাজার তৈরি করা এবং প্রযুক্তি তৈরি করা এক জিনিস নয়। একটা কাপড়ের আধুনিক commercial identity কোথাও তৈরি হতে পারে, অথচ তার প্রযুক্তিগত ও সাংস্কৃতিক শিকড় থাকতে পারে অন্য কোথাও। এই পার্থক্যটা ভুলে গেলে ইতিহাস অসম্পূর্ণ হয়ে যায়।

চিত্রে দেয়া ঢাকার একটা কাপড় যে প্রশ্নটা আবার সামনে আনে। বাংলার সঙ্গে সিয়ারসাকারের সম্পর্ক নিয়ে গবেষণার সবচেয়ে আকর্ষণীয় সূত্রগুলোর একটা হলো ঢাকার একটা উনিশ শতকের textile specimen অর্থাৎ উনিশ শতকের ঢাকায় ‘শীর-ও-শক্কর’ নামে পরিচিত একটা textile বাস্তবেই তৈরি হয়েছিল যার প্রমাণ আমার এই লেখা ও সংগৃহীত ছবি।

এটা নিঃসন্দেহে একটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ। কিন্তু এখানেও সতর্কতা জরুরি। এই একটা নমুনা দিয়ে বলা যায় না যে সিয়ারসাকার ঢাকায় আবিষ্কৃত হয়েছিল। সেটা প্রমাণ করতে হলে আরও পুরোনো নমুনা, তাঁতপ্রযুক্তির বিবরণ এবং সমসাময়িক বাণিজ্যিক ও কারিগরি নথি প্রয়োজন।

কিন্তু নমুনাটা অন্তত একটা বিষয় পরিষ্কার করে: বাংলার সঙ্গে ‘শীর-ও-শক্কর’ নামের textile tradition-এর বাস্তব সম্পর্ক ছিলো। এখন প্রশ্ন হলো, এই সম্পর্ক কতটা পুরোনো এবং কতটা গুরুত্বপূর্ণ ?

সেটাই গবেষণার বিষয়। এটাই ইতিহাসের ভাঁজে হারিয়ে যাওয়া না বাংলার তাঁতিদের দুর্ভাগ্য। সিয়ারসাকারের সবচেয়ে বড় শিক্ষা এখানেই। কাপড়ের নাম টিকে থাকতে পারে, কিন্তু তাঁতির নাম হারিয়ে যেতে পারে। ব্যবসায়ীর নাম ইতিহাসে থাকতে পারে, কিন্তু উৎপাদকের নাম অদৃশ্য হয়ে যেতে পারে। একটা কাপড় নতুন দেশে গিয়ে নতুন পরিচয় পেতে পারে, কিন্তু তার পুরোনো পরিচয় ধীরে ধীরে মুছে যেতে পারে।

তাই বাংলার textile history পুনর্লিখনের প্রয়োজন শুধু অতীতের গৌরব ফিরিয়ে আনার জন্য নয়। প্রয়োজন উৎপাদকের জ্ঞানকে ইতিহাসে তার যথাযথ জায়গা দেওয়ার জন্য। বাংলার তাঁতিরা শুধু সুন্দর কাপড় বানাতেন, এই ধারণা যথেষ্ট নয়। তাঁদের কাজের মধ্যে ছিল fibre selection, yarn preparation, loom technology, tension control, pattern construction এবং জলবায়ুর সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। এই জ্ঞানকে কেবল ‘craft’ বলে ছোট করে দেখা ইতিহাসেরই অবমূল্যায়ন।

আজ নিউইয়র্ক, লন্ডন কিংবা Washington-এর fashion store-এ একটা seersucker suit কয়েকশ বা কয়েক হাজার ডলারে বিক্রি হতে পারে। কিন্তু তার নামের মধ্যে এখনো বেঁচে আছে shir-o-shakkar, "দুধ ও চিনি।"

বেঁচে আছে এই অঞ্চলের দাপ্তরিক ফার্সি ভাষার স্মৃতি। বেঁচে আছে গরম আবহাওয়ার সঙ্গে মানুষের অভিযোজনের এক পুরোনো বয়নপ্রযুক্তি। আর ঢাকার একটা ১৮৭২ সালে সংগৃহীত textile specimen আমাদের সামনে রেখে যায় একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন:

সিয়ারসাকারের ইতিহাসে বাংলার তাঁতিদের ভূমিকা কতখানি ? আজ সেই প্রশ্নের চূড়ান্ত উত্তর আমাদের হাতে নেই। তাই ইতিহাসের প্রতি সৎ অবস্থান হলো দাবি নয়, অনুসন্ধান। হয়তো ভবিষ্যতের কোনো পুরোনো কোম্পানি নথি, কোনো বন্দরনগরের বাণিজ্য তালিকা, কোনো Persian manuscript কিংবা কোনো জাদুঘরের অচেনা textile sample সেই উত্তর দেবে। হয়তো দেবে না। কিন্তু একটি বিষয় নিশ্চিত, সিয়ারসাকার আমেরিকায় জনপ্রিয় হয়েছে, কিন্তু তার গল্প আমেরিকায় শুরু হয়নি। আর ইতিহাসের কাজ শুধু কে তাকে বিখ্যাত করেছে তা বলা নয়। কে তাকে তৈরি করেছিল, কী জ্ঞান দিয়ে তৈরি করেছিল এবং সেই জ্ঞানের কতটা আমরা হারিয়ে ফেলেছি, সেই প্রশ্নও করা।
চিত্রে: ঢাকায় ১৮৭২ সালে সংগ্রহ করা  Shir-o-Shakkar বা ‘শীর-ও-শক্কর’ কাপড়ের একটা নমুনা। এতে সাদা সুতির সিয়ারসাকার এবং সোনালী তসর রেশমের উল্লম্ব ডোরা রয়েছে। দুই প্রান্ত কাটা।  মাপ ৯০.৫ × ৯৩.৫ সেন্টিমিটার। Accession No. 8848 (IS), South and South East Asian Collection, Victoria and Albert Museum, London. ঐতিহাসিক এই textile specimen-এর তথ্য ও চিত্র ব্যবহারের সুযোগের জন্য Victoria and Albert Museum-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা।

তথ্যসূত্র
1. Victoria and Albert Museum (V&A), London — Shir-o-Shakkar, Dhaka, 1872; Accession No. 8848 (IS), South and South East Asian Collection।
2. Historic New Orleans Collection — Seersucker-এর ইতিহাস, বয়নপ্রযুক্তি এবং Joseph Haspel-এর ভূমিকা।
3. U.S. Senate Historical Office — Southern senators-এর summer clothing এবং “Seersucker Thursday”-এর ইতিহাস।
4. Oxford English Dictionary (OED) — seersucker শব্দের ঐতিহাসিক ব্যবহার ও etymology।
5. Collins English Dictionary — seersucker শব্দের উৎস এবং Hindi śīrśakar ও Persian shīr o shakkar-এর সম্পর্ক।
6. ভারতীয় বস্ত্রের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, East India Company এবং ইউরোপীয় বাজারে Indian cotton textiles সম্পর্কিত ঐতিহাসিক গবেষণা।