ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বারোবাজার ইউনিয়নে প্রায় তিন বর্গকিলোমিটার জুড়ে ছড়িয়ে আছে সুলতানি আমলের প্রাচীন শহর মোহাম্মদাবাদ। এখানে খুঁজে পাওয়া গেছে পনেরোটিরও বেশি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, যার অধিকাংশই মসজিদ। কথিত আছে, সংস্কারক খান জাহান আলী বারোজন সহচর নিয়ে এখানে এসেছিলেন বলেই এলাকার নাম হয় বারোবাজার।

যুদ্ধ ও মহামারিতে বিলুপ্ত এক নগরী

যুদ্ধ কিংবা মহামারিতে একসময় এই জনপদ ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছিল বলে ইতিহাস থেকে জানা যায়। শতাব্দীর পর শতাব্দী মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকার পর ১৯৯২-৯৩ সালে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের খননকাজে বেরিয়ে আসে জোড়বাংলা মসজিদ, গলাকাটা মসজিদ, গোড়ার মসজিদসহ একাধিক স্থাপনা।

সবুজ বৃক্ষবেষ্টিত গ্রামীণ প্রকৃতির মাঝে আজও কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে এই প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো।

টেরাকোটার হারানো কারুকাজ

এই মসজিদগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় গোড়ার মসজিদ, যার বাইরের দেয়ালে আজও দেখা যায় টেরাকোটার অপূর্ব কারুকাজ। কাছেই বড় সাতগাছিয়া আদিনা মসজিদ, যা আকারে বারোবাজারের সবচেয়ে বৃহৎ।

সংক্ষেপে
  • প্রায় ১৫টি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, অধিকাংশই মসজিদ ও দিঘি।
  • খননকাজ পরিচালিত হয় ১৯৯২-৯৬ সালের মধ্যে।
  • শিলালিপি অনুযায়ী আনুমানিক বয়স প্রায় ৬৫০ বছর।

তথ্যসূত্র: প্রকাশিত প্রতিবেদন ও প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তথ্য অবলম্বনে পুনর্লিখিত।