বাগেরহাটের দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা ষাট গম্বুজ মসজিদ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ সুলতানি স্থাপত্যের নিদর্শন। মসজিদের গায়ে কোনো শিলালিপি নেই, তাই এর নির্মাণকাল সম্পর্কে সরাসরি প্রমাণ নেই। তবে স্থাপত্যরীতি বিচারে ইতিহাসবিদরা মোটামুটি নিশ্চিত যে পঞ্চদশ শতকে সুন্দরবন অঞ্চলের শাসক খান জাহান আলী এটি নির্মাণ করিয়েছিলেন।

🖼️ এখানে আপনার নিজের ছবি যুক্ত করুন (প্রস্তাবিত মাপ: 1200 × 700 পিক্সেল)

ছবি: সংগৃহীত

নামের পেছনে সংখ্যার রহস্য

নাম ‘ষাট গম্বুজ’ হলেও প্রকৃতপক্ষে মসজিদের ছাদে রয়েছে ৮১টি গম্বুজ। ধারণা করা হয়, ভেতরের ৬০টি পাথরের স্তম্ভ থেকেই এসেছে এই নামকরণ। মসজিদটি বাইরের দিকে প্রায় ১৬০ ফুট লম্বা ও ১০৮ ফুট চওড়া, দেয়ালগুলো প্রায় সাড়ে আট ফুট পুরু — যা মধ্যযুগীয় বাংলার নির্মাণকৌশলের এক অসাধারণ দৃষ্টান্ত।

বাগেরহাট শহরটিকেই ১৯৮৩ সালে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়।

মসজিদের শহর

ষাট গম্বুজ মসজিদ একা নয় — এর আশপাশে ছড়িয়ে আছে খান জাহান আলীর প্রতিষ্ঠিত আরও অসংখ্য মসজিদ, সেতু ও দিঘি, যা মিলে বাগেরহাটকে পরিচিত করেছে ‘মসজিদের শহর’ নামে। মসজিদের পাশেই রয়েছে একটি জাদুঘর, যেখানে সংরক্ষিত আছে খান জাহান আলীর স্মৃতিবিজড়িত নানা নিদর্শন।

সংক্ষেপে
  • মোট গম্বুজ সংখ্যা ৮১টি, স্তম্ভ ৬০টি।
  • নির্মাণকাল আনুমানিক পঞ্চদশ শতক, নির্মাতা খান জাহান আলী।
  • ১৯৮৩ সালে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য স্বীকৃতি।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন ও প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের প্রকাশনা অবলম্বনে।