জগদ্দল বিহার এর পরিচিতি
নওগাঁ জেলার ধামুইরহাট উপজেলার জগদ্দল গ্রামে জগদ্দল বিহার অবস্থিত। ঐতিহাসিক বিবরণ হতে জানা যায় পাল রাজা রামপাল (১০৭৭-১১২০খ্রি:) জগদ্দল মহাবিহার প্রতিষ্ঠা করেন এবং সেখানে তিনি অবলোকিতেশ্বর ও তারা মূর্তি স্থাপন করেন। বিভূতিচন্দ্র, দানশীল, মোক্ষাকর গুপ্ত, শুভাবর গুপ্ত প্রমুখ পণ্ডিতগণ জগদ্দল মহাবিহারে ছিলেন এবং জগদ্দল মহাবিহারে সংস্কৃত ভাষায় রচিত গ্রন্থাদি তিব্বতী ভাষায় অনূদিত হতো। এখানে উৎখননের ফলে একটি বৌদ্ধবিহারের ধ্বংসাবশেষ উন্মোচিত হয়েছে যার চার কোণে চারটি গোলাকার বুরুজের ন্যায় কক্ষ আছে। বুরুজ কক্ষ ছাড়াও এখানে মোট ৩৪ টি ভিক্ষু কক্ষ দেখা যায়। বিহারের পূর্ব দিকে রয়েছে প্রধান প্রবেশ পথ। ভিতরে অবস্থিত প্রধান মন্দিরটি বর্গাকার। প্রধান মন্দিরের সামনে মণ্ডপে সমদূরত্বে চার জোড়া মোট ০৮টি গ্রানাইট পাথরের স্তম্ভ ছিল। এখানে প্রাপ্ত প্রত্নবস্তু গুলির মধ্যে রয়েছে পাথরের বিভিন্ন মূর্তি, পোড়ামাটির ফলক, অলংকারিক ইট, লোহার পেরেক ও কাঁটা, পোড়ামাটির বল, পাথরের নালা, পাথরের গুটিকা ও প্রচুর মৃৎপাত্রের টুকরা ইত্যাদি। তিব্বতীয় গ্রন্থমালার সূত্র থেকে জানা যায় তৎসময়ের পাঁচটি বিখ্যাত মহাবিহারের (বিক্রমশীলা, নালন্দা, সোমপুর, ওদন্তপুরী ও জগদ্দল মহাবিহার) মধ্যে একটি ছিল জগদ্দল মহাবিহার।