ঢাকার অদূরে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও একসময় ছিল বাংলার এক গুরুত্বপূর্ণ রাজধানী নগরী। ষোড়শ শতকে মোগল সাম্রাজ্যের সম্প্রসারণের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো বারো ভূঁইয়াদের নেতা ঈশা খাঁ এই অঞ্চল থেকেই শাসন পরিচালনা করতেন। নদীবেষ্টিত এই জনপদ তখন ছিল মসলিন কাপড়ের বাণিজ্যের এক প্রাণকেন্দ্র, যেখানে ভিড় জমাতেন দূর-দূরান্তের বণিকরা।

🖼️ এখানে আপনার নিজের ছবি যুক্ত করুন (প্রস্তাবিত মাপ: 1200 × 700 পিক্সেল)

ছবি: সংগৃহীত

ঈশা খাঁ ও বারো ভূঁইয়াদের প্রতিরোধ

মোগল সম্রাট আকবরের বাহিনীর একের পর এক অভিযান সত্ত্বেও দীর্ঘদিন স্বাধীন সত্তা বজায় রেখেছিলেন ঈশা খাঁ ও তাঁর মিত্র জমিদাররা। সোনারগাঁও তখন কেবল রাজনৈতিক কেন্দ্র নয়, বরং নদীপথে যুক্ত একটি সমৃদ্ধ বাণিজ্যনগরীও বটে।

একসময়ের রাজধানী আজ কেবল ইতিহাসের পাতা আর কয়েকটি ভাঙা ভবনের স্মৃতি হয়ে টিকে আছে।

পানাম নগরের সারিবদ্ধ ভবন

পরবর্তীকালে ঔপনিবেশিক আমলে সোনারগাঁওয়ের পানাম এলাকায় গড়ে ওঠে ধনী বস্ত্র-ব্যবসায়ীদের সারিবদ্ধ ভবন, যেগুলোর স্থাপত্যে মিশে আছে ইউরোপীয় আর স্থানীয় রীতির মিশ্রণ। কালের বিবর্তনে অধিকাংশ ভবন এখন পরিত্যক্ত, তবে পাশেই লোকশিল্প জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে বাংলার হস্তশিল্পের বিপুল সম্ভার।

সংক্ষেপে
  • ষোড়শ শতকে বারো ভূঁইয়া নেতা ঈশা খাঁর রাজধানী।
  • পানাম নগরে প্রায় ৫০টি ঐতিহাসিক ভবন রয়েছে।
  • পাশেই রয়েছে লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর।

তথ্যসূত্র: প্রকাশিত ঐতিহাসিক বিবরণ অবলম্বনে পুনর্লিখিত।